সাক্ষাৎকার

0
1206

১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহীদ আর আড়াই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি কিন্তু আজও নারী ও শিশু নির্যাতন রুখতে আমরা পারিনি। আমরা নারী ও শিশুকে স্বাধীনতা দিতে পারিনি। নারী ও শিশু এখনও সমাজে নির্যাতিত ধর্ষন ও হত্যার স্বীকার হচ্ছে। সরকারের একার পক্ষে এ সামাজিক ব্যাধী নির্মূল সম্ভব নয়,চাই সকলের সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।এসকল দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক সংগঠন। অসংখ্য এ সংগঠনের মধ্য থেকে আমরা এবার এসেছি “নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরোধী শক্তি” ,কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান, সাংবাদিক জুবায়ের আল মামুন ভাইয়ের কাছে

বাবুই : বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের সংগঠন রয়েছে। আপনি কেন“ নারী ও শিশু” এরকম একটি বিষয় বেছে নিয়ে সাংগঠনিকভাবে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন?

 মামুন : আমি অনেকদিন লক্ষ্য করেছি নারী ও শিশু নির্যাতন ধর্ষণ ও হত্যা বেড়ে গেছে,এটার একটা মূলকারণ বিচারে দীর্ঘসূত্রীতা এর কারনে আসামী এক সময় জেল থেকে বেড় হয়ে সমাজে আবার একই অপরাধ জড়িত হয়।আমি একজন সংবাদ কর্মী হিসাবে বিভিন্ন সময় নির্যাতিত নারীদের পাশে ছিলাম, দীর্ঘ দিন নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রাস্তায় দাড়িয়েছি কিন্তু মনদিয়ে কাজ করতে পারিনি। বারবার মনে হয়েছে আমাদের মতো পুরুষরাই তো নারী নির্যাতণে জড়িত। তাই এবার আমি একটি সংগঠন করেছি। ” নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরোধী শক্তি” এটা একটি অনলাইন সংগঠন।

বাবুই : সংগঠনটি সারাদেশে কিভাবে সাজাতে চান?

মামুন : এই কমিটিতে ১জন ডাক্তার,১জন উকিল,১জন শিক্ষক,১জন পত্রিকা সাংবাদিক, ১জন চ্যানেল সাংবাদিক, ১ জন ছাত্র প্রতিনিধি, ১জন ছাত্রী প্রতিনিধি থাকবে। আমাদের মূল কাজ হলো কোন জেলা বা উপজেলায় নারী নির্যাতণের ঘটনা ঘটলে চিকিৎসক, উকিল প্রতিনিধি ও সাংবাদিক প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি গঠন করে ভিকটিম এর কাছে পাঠানো, তারা তদন্ত করে দেখবে ঘটনা সত্যি কিনা অনেক সময় নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সাজানো হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে আমরা সাপোর্ট দিবোনা।কিন্তু যদি নির্যাতন বা ধর্ষণের ঘটনা সত্যি হয় তখন ভিকটিমের পাশে আমাদের কমিটির প্রতিনিধি দল উপস্থিত থেকে সাহস জোগাবে, আপনি লক্ষ্য করবেন মানুষ বিপদে পড়লে অসহায় হয়ে যায় তখন একটু পাশে থাকলে সে ভরসা খুঁজে পায়।

বাবুই : আপনাদের লক্ষ্য কি?

মামুন : আমাদের লক্ষ্য হলো ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্ট করা ঠিক হয়েছে কিনা এটা সঠিক বিচার প্রপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কমিটির ডাক্তার দেখবেন। আইনজীবী দেখবেন মামলাটি সঠিক ভাবে লেখা হয়েছে কিনা,অনেক সময় মামলা দুর্বলভাবে লেখা হয়,পরে আসামী ঐ পথ দিয়ে জামিন ও মুক্তি পায়। আমাদের শিক্ষক প্রতিনিধি স্কুলে স্কুলে সচেতনতা বৃদ্ধি করবেন, ছাত্র ছাত্রীদের প্রতিনিধি সকল ছাত্র ছাত্রী নিয়ে মানববন্ধন করবে আসামি গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত।

বাবুই : সংগঠনটির প্রসার ও প্রচারে কিভাবে কাজ করছেন

মামুন : পত্রিকা সাংবাদিক চ্যানেল নিউজ প্রতিনিধি মিডিয়া কাভারেজ দিবে। প্রতিটি জেলা উপজেলা কমিটির একটা নির্যাতন মামলার ভলিউম বুক থাকবে। ভলিউম বুকে মামলা শুরু হওয়ার তারিখ,ঠিক মতো বিচার হলো কিনা এবং পরিশেষে মামলার পরিসমাপ্তি কি হলো পর্যালোচনায় রাখবে।

বাবুই : সংগঠনটি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ চিন্তা কি?

মামুন : আমি এই সংগঠনকে জেলার মহিলা পরিষদের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসাবে দার করাবো ইনশাআল্লাহ। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টে এর উকিল, পত্রিকার প্রথিতযশা সাংবাদিক উপদেষ্টা হিসেবে আছেন, পরামর্শ প্রয়োজন হলে তারা দিচ্ছেন।

বাবুই : সরকার ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কি আশা করেন?

মামুন : আমরা সরকারের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে নারী ও শিশুদের উপর নির্যাতন এর ভয়াবহতা নির্মূল করতে চাই। এজন্য সমাজের বিবেকবান প্রতিটা মানুষ আমাদের পাশে থাকবেন বলে আমি আশা করছি। ইনশাআল্লাহ সকলে মিলে সরকারকে সহযোগিতা করলে এটা নির্মূল দ্রুত সম্ভব।

  

সাক্ষাৎ গ্রহণে:

হাছিবুর রহমান

সম্পাদক, বাবুই সাহিত্য পত্রিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here