কবিতার ফেরিওয়ালা মুসাফির (কবি মুহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম) এর এক গুচ্ছ কবিতা

0
168
কবিতার ফেরিওয়ালা মুসাফির
শিরোনামহীন
আমায় তুমি দিও নাকো প্রেম
ব্যথা দিও রাশি রাশি
আমিতো বন্ধু ফুলের চেয়েও
কাঁটা বেশি ভালোবাসি।
ফুল ঝরে যায় দু’দিনেই
কাঁটা মিশে থাকে গাছে
ভালোবেসে নেয় কাঁটার আঘাত
এমনও মানুষ আছে।
ফুল দিতে চেয়ে কাঁটা দিয়ে তুমি
করেছিলে অপমান
সেই থেকে আমি কাঁটা ভালোবাসি
এযে প্রেয়সীর দান।
ফুলের জীবন খুব সাময়িক
কাঁটার জীবন বড়
তাই বুঝি মোরে ফুল না দিয়ে
কাঁটায় বরণ করো।
সবাই কুড়ায় শিউলি বকুল
বসে থাকে গাছ তলায়
আমিতো বন্ধু কাঁটার মালা
পরেছি নিজের গলায়।
কাঁটা দিয়েছিলো গোপনে কে
দিতে চেয়ে ফোটা ফুল
মনের বাগানে মৌমাছি সেজে
এসেছিলো ভিমরুল।
ফুলের ঠোঁটে ভোমর বসে
মধু নেয় মৌমাছি
তাইতো আমি ভুলেও যাই না
ফুলের কাছাকাছি।
আমিতো বন্ধু কাঁটার আঘাত
নীরবে একাকী সই
কে দিয়েছিলো বিষের কাঁটা
কারো কাছে নাহি কই।
সংগোপনে ফুলের কানে
ভোমর যে কথা বলে
সে কথা কী কাঁটার কাছে
কখনোই বলা চলে।
কাঁটা বাদ দিয়ে ফুল নিতে চাও
তাও কি কখনো হয়
তুমিতো জানো না ফুল ও কাঁটা
একই বৃন্তে রয়।
কবিতার ফেরিওয়ালা মুসাফির

কবিতার সাথে প্রেম

কবিতার সাথে প্রথম দেখা

মেঠো পথে পাড়া গাঁয়ে

কবিতার সাথে ঘুরে বেড়িয়েছি

পালতোলা খেয়া নায়ে।

কবিতার সাথে প্রেমের খবর

চারিদিকে গেছে রটে

কবিতা অনেক লজ্জা পেয়েছে

আমারো কষ্ট বটে।

হৃদয়ের মাঝে বিরহ ব্যথা

কষ্টের বীজ ছড়ায়ে কবিতারে

যতো চলে যেতে বলি

সে আমায় ধরে জড়ায়ে।

কবিতা আমারে জড়ায়ে ধরে

বলেছিলো কানে কানে

আমাদের এই প্রেমের খবর

কেউ যেনো না জানে।

প্রেম কী কখনো গোপন থাকে

হয়ে গেছে জানা জানি

চাঁদ কতোক্ষণ আড়ালে থাকে

মেঘের আঁচল টানি।

কবিতা নামের প্রেয়সী আমার

হৃদয়েতে দেয় নাড়া

আমিও একা থাকতে পারি না

কবিতার প্রেম ছাড়া।

কবিতারে নিয়ে অভিসারে যাই

কবিতার ধরি হাত

কবিতারে বুকে জড়াইয়া রেখে

পার করে দেই রাত।

কবিতার সাথে প্রেমের খবর

পড়শিরা সব জানে

কবিতা এখন অষ্টাদশী চাঁদ

যেনো আসমানে।

কবিতারে করি আদর সোহাগ

জড়ায়ে ধরি আমি

কবিতা বলে মুসাফির তোমার

এ কেমন পাগলামি।

কবিতা যখন ফুলবনে থাকে

আমি মৌমাছি হই

কবিতা হলে বিশাল সাগর

ঢেউ তুলি থৈ-থৈ।

কবিতা কখনো কৃষ্ণচূড়া

শিমুল লাল পলাশ

কবিতা কখনো হাসনাহেনা

শিশির দুর্বাঘাস।

কবিতা কখনো লাজুক বধূ

প্রিয়া অষ্টাদশী

কবিতা কখনো ক্লান্ত পথিক

খেয়াঘাটে থাকে বসি।

কবিতা কখনো হলুদিয়া পাখি

দোয়েল শ্যামার গান

কবিতা কখনো বউ কাথা কও

চাতকের অভিমান।

কবিতা কখনো হিম কুয়াশা

মৃদু দখিন হাওয়া

কবিতা কখনো শিউলি বকুল

পথিকের গান গাওয়া।

কবিতা কখনো সাদা কাশফুল

বলেশ্বরের বাঁধ

কবিতা কখনো আকাশের তারা

জোছনায় ভরা চাঁদ।

কবিতা কখনো দুঃখ কষ্ট

মনের বিরহ জ্বালা

কবিতা কখনো ব্যথা বেদনা

কাঁটার বিষের মালা।

কবিতার কাছে জমা আমার

গোপন প্রেমের ঋণ

তাইতো নীরবে কবিতারে আমি

ভালোবাসি প্রতিদিন।

মাঝ রাতে উঠে কবিতারে খুঁজি

কবিতা গেলো কই

চেয়ে দেখি পাশে কবিতা নাই

আছে কবিতার বই।

এখন আমি শহরে থাকি

বিশাল দালান ঘরে

মনটা আমার কবিতার কাছে

পাড়া গাঁয়ে থাকে পড়ে।

কবিতারে দিতে পারি না সময়

ব্যস্ত অফিস কাজে

তাইতো কবিতা আমার সাথে

রাগ করে মাঝে মাঝে।

আমার কাছে অনেকেই বলে

কবিতারে তারা চেনে

বাজার থেকে কবিতার বই

পয়সা দিয়ে কেনে।

মনে মনে হাসি যারে ভালোবাসি

সে-কি এতো সোজা পণ্য

খুঁজে ফিরি কই

কবিতার বই

পেলে আমি হই ধন্য।

কবিতার ফেরিওয়ালা মুসাফির
ফেরিওয়ালা
এলো নূতন ফেরিওয়ালা হৃদয় করতে ফেরি
তারে বলি- বন্ধু তুমি করেছো খুউব দেরী।
বেচা-কেনা শেষ হয়েছে বাজার এখন ফাঁকা
সওদাগর সব চেলে গেছে বেকার বসে থাকা।
কিনবে না কেউ ভাঙ্গা হৃদয় নগদ কিবা বাকিতে
লোকসানেরই ব্যবসা তোমার গুটাও বেলা থাকিতে।
এই বাজারে তাজা পণ্য ক্রেতা হাজার হাজারে
তোমার বাসি হৃদয় বন্ধু বেচো অন্য বাজারে।
বেচবে যখন হৃদয় তোমার আসলে না ক্যান ভোরে
হৃদয় কেনার জন্য কি কেউ দুপুর রোদে ঘোরে (?)
দেখিনিতো হৃদয় তোমার আসল নাকি নকল
সারাদিনই কেনা-বেচায় গেছে অনেক ধকল।
সবাই কেনে বাজার থেকে গেরস্থলির পণ্য
আমি কিনি নেকের আমল আখিরাতের জন্য।
বললে বন্ধু হৃদয় তোমার ফুলের মতো তাজা
পরখ করে দেখি সেতো কষ্ট তেলে ভাজা।
হৃদয়টাকে ফেরি করো তুমি রাত্রি-দিন
শুধাই বন্ধু হৃদয়টা কী এতোই মূল্যহীন।
ইচ্ছে করে তোমার হৃদয় মূল্য দিয়ে রাখি
সেতো খাঁচায় পোষ না মানা বনের মুক্ত পাখি।
যে কেনে ঐ পোড়া হৃদয় অল্প দামে সস্তায়
সে তো জানি কষ্ট নিয়ে সারা জীবন পস্তায়।
কেনা-বেচার হাটে আসে কতো মহাজন
সবাই চেনে টাকা-কড়ি ক’জন চেনে মন।
যেজন কেনে তোমার হৃদয় দিয়ে অনেক দাম
তার কপালে জোটে মিছে প্রেমেরি বদনাম।
কতো মহাজন দোকানী সুজন দরকারি মাল কেনে
কবিতার এই ফেরিওয়ালারে ক’জনে বলো চেনে?
কানে কানে বন্ধু তোমায় গোপন কথা কই
ইচ্ছে করে তোমার মতো ফেরিওয়ালা হই।
যেখানে যাও সওদা নিয়ে দু’নম্বরি কাজ
হৃদয় কেনা-বেচার হাটে সবাই ধান্ধাবাজ।
কেমন করে হৃদয় তোমার বানাও সস্তা পণ্য
না হয় ওটা রেখে দিও মুসাফিরের জন্য।
তুমিতো চেনো না এই ফেরিওয়ালা সেই ফেরিওয়ালা নয়
যারা বেচে মুদি মনোহরি বেচে না তার হৃদয়।
স্বপ্ন ছিলো ব্যবসা করে বাড়বে আরো ধন
এক নামেতে চিনবে সবাই প্রেমের মহাজন।
ভালোবাসার ফসল বলো এমনি কি আর ফলে
সেই চারাগাছ বেড়ে ওঠে চোখের গোপন জলে।
যে হৃদয়ে নাইরে খোলা প্রেম পিরিতির মাঠ
সেখানে কি বসে বলো কেনা বেচার হাট (?)
হৃদ নগরে তোমার মতো আর কি কেহ আছে?
ভালোবাসা ফেরী করে মুসাফিরের কাছে।
ইচ্ছে করে তোমার থেকে কষ্ট হৃদয় কিনি
প্রেম বাজারে ব্যবসায় আমার লোকসান প্রতিদিনই।
ভেজাল হৃদয় জমাবো না গোপন প্রেমের আড়তে
চালান করে দেবো ওসব বার্মা কিবা ভারতে।
কবিতার ফেরিওয়ালা মুসাফির
হতভাগা দেশ
এদেশে সবুজ শ্যামল সোনার বাংলা মানুষগুলো মন্দ না
কাজ অকাজে ঝগড়া বিবাদ খুন খারাবি দ্বন্দ্ব না
কিসের নালিশ কোথায় শালিশ ক্ষমতা আজ খাস করি
আমি এক আজব দেশে বাস করি . . .
এদেশে এমপি নেতা মন্ত্রী হতে জনগণের ভোট লাগে না
মিথ্যা ভাষণ পুকুর চুরি নেতার বুকে চোট লাগে না
মনের মাঝে ক্ষোভের লাজে দুঃখ ব্যথা চাষ করি
আমি এক আজব দেশে বাস করি . . .
এদেশে খান বাহাদুর ঘোষণা দেয় সহনীয় বৈধ যে ঘুষ
লোভের নেশায় মাতাল নেতা প্রলাপ বকে হারায় যে হুশ
আমজনতা নাই ক্ষমতা পিটিয়ে সব লাশ করি
আমি এক আজব দেশে বাস করি . . .
এদেশে ভেজাল পণ্য যাচ্ছে পাওয়া দোকানপাটে হাটবাজারে
ভন্ড মুরিদ পীরের চ্যালা খানকাতে দরগা মাজারে
সাদা কালো মন্দ ভালো নিজের সর্বনাশ করি
আমি এক আজব দেশে বাস করি . . .
এদেশে অস্ত্র মাদক সোনা চালান যাচ্ছে করে গডফাদারে
প্রতিবাদের নেইতো সুযোগ শিকলে হাত পা বাধা রে
ব্যর্থ আশায় তরী ভাসায় খেতের ফসল ঘাস করি
আমি এক আজব দেশে বাস করি . . .
এ দেশে শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা চলে মাদ্রাসা স্কুল কলেজে
রাবিশ ভোগাস উপাধি তার উচিত কথা যাই বলে যে
হায়রে নকল সই যে ধকল সত্য যদি ফাঁস করি
আমি এক আজব দেশে বাস করি . . .
এ দেশে সব কাজে অনিয়ম চলে কোনটা রেখে কোনটা বলি
অনিয়মে ভরে গেছে অফিস পাড়া পথ নদী খাল অলিগলি
কষ্ট জমাই দুঃখ কমাই মনে হা-হুতাশ করি
আমি এক আজব দেশে বাস করি . . .
কবিতার ফেরিওয়ালা মুসাফির
ভালোবাসার গুষ্টি কিলাই
ভালোবাসার নেশায় যেজন দিন রাত্রি ডুবে থাকে
তার জীবনে সুখ আসে না সে পড়ে যায় কষ্ট পাঁকে
চাকরি ব্যবসায় ভরাডুবি মনে শান্তির ফুল ফোটে না
ভালোবাসার গুষ্টি কিলাই ভালোবাসায় ভাত জোটে না . . .
পার্ক হোটেলে নির্জনতায় মোবাইল নেটে হাই হ্যালো
সারাক্ষণই চ্যাটিং ব্যাটিং সময় টাকা সব গ্যালো
মনেরি চাঁদ নিভে গেলে নীল আসমানে চাঁদ ওঠে না
ভালোবাসার গুষ্টি কিলাই ভালোবাসায় ভাত জোটে না . . .
ভালোবাসা নেইতো এখন ত্যাগ মমতার বিশ্বাসে
ঘনঘন হৃদয় বদল হাওয়া বদল নিঃশ্বাসে
ঝড় না হলে হৃদ আকাশে মাতাল হাওয়ায় মেঘ ছোটে না
ভালোবাসার গুষ্টি কিলাই ভালোবাসায় ভাত জোটে না . . .
কবিতার ফেরিওয়ালা মুসাফির
নষ্ট কবিতার কষ্ট
কবিতা ছিলো আগের দিনে
ছন্দ তালের মিলে
চাঁদ পাখি নদী ফুলের বনে
হাসি খুশি ভরা দিলে।
কবিতা এখন অরক্ষিত
বসে থাকে ফুটপাতে
মুকুলিত কলি ধর্ষিত হয়
নাদান মূর্খের হাতে।
কবিতা ছিলো লাজুক প্রিয়া
ঘোমটায় ঢাকা মুখ
রাত বিরাতে কবিতা এখন
খোঁজে পরকীয়া সুখ।
কবিতা প্রেয়সী গগনের শশী
সুবাসের ছিলো দাম
যুগ জামানায় বিপথগামী
বেহায়ার বদনাম।
কবিতা গোপনে গলির মোড়ে
দোকানেতে দেয় উঁকি
অশীতিপর বৃদ্ধা সে আজ
আগে ছিলো খুব সুখী।
কবিতা এখন সস্তা পণ্য
বাজারে সবাই খোঁজে
নষ্ট কবিতার গোপন কষ্ট
ক’জনে বলো বোঝে।
স্বদেশ প্রেমে কবির উপলব্ধি
এ দেশের মসজিদে টুপি পরে চোর আসে
নামাজির বেশে আমি মরি হেসে।
এ দেশের নেতারা মিথ্যা ভাষণে পটু রাজনীতি মঞ্চে
পাবলিক পাটখড়ি ধনচে।
এ দেশের দোকানে ভেজাল ভরা দরকারী পণ্যে
খাঁটি মাল খুঁজে হবে হণ্যে।
এ দেশের মানুষের মিল নাই ওয়াদা কিবা কথা আর কাজে
আমি মরি লাজে।
এ দেশের পরীক্ষায় নকলের মহড়া প্রশ্ন ফাঁসের মহাযজ্ঞ
সবাই জানলেও সরকার বাহাদুর অজ্ঞ।
এ দেশের নেতারা আনন্দে ভেসে যায় হুজুগের জোয়ারে
সাঁতার না জানা আমি বাঁধা থাকি খোঁয়াড়ে।
এ দেশের মানুষের মনে থাকে হিংসা নামক ঘুণপোকা
বুদ্ধিমানের দলে আমি একাই বোকা।
এ দেশের সবাই ধরে উন্নয়নের নামে চেতনার হাল
আমি চাষা মাঠে থাকি অবুঝ রাখাল।
এ দেশের রাজপথে হরতাল মারামারি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
প্রশাসন একচোখা অন্ধ।
এ দেশের অফিসেতে স্পীড মানি নামে ঘুষ হয় লেনদেন
সহনীয় ঘুষ খেতে মন্ত্রী ফতোয়া দেন।
এ দেশের আদালতে আইনি প্রয়োগ চলে নিজস্ব গতিতে
বোকা পাবলিক থাকে আজীবন ক্ষতিতে।
এ দেশের জ্ঞানী গুণী পুজা করে খাজা বাবা দরগা মাজারে
উদাহরণ লাখ শত হাজারে।
এ দেশের মানুষেরা অসুখে মানত করে মাজারের বাক্সে
রঙ তামাশার কথা থাক সে।
এ দেশের মানুষের দেশ প্রেম প্যারামিটার মুরগী কিনতে গেলে বাড়ে
বাকি সব ভিনদেশী দুঃখটা কই আমি কারে।
এ দেশের ব্যবসায়ী মন্ত্রী এমপি নেতা বিদেশে সেকেন্ড হোম বানায়
দেশ প্রেমে ডুবে থাকে আমার মতোই যতো ল্যাংড়া ফকির খোঁড়া কানায়।
কবিতার ফেরিওয়ালা মুসাফির
কষ্ট ফাগুন
আকাশের দেহ কষ্টের রঙে নীল
সাগরের জলে কষ্টের লোনা ঢেউ
কষ্টের পোনা বুকে করে কিলবিল
আমার কষ্ট দেখারতো নাই কেউ।
ফেরারি কষ্টে উতলা ফাগুন মাস
মেঘের ডানায় কষ্ট কোকিল ওড়ে
দমকা হাওয়ায় কষ্টের নিঃশ্বাস
বিরহী হৃদয় কষ্ট অনলে পোড়ে।
কষ্ট আগুনে শিমুল পলাশ জ্বলে
কৃষ্ণচূড়ার ঠোঁট পুড়ে হয় লাল
কাঁটার আঘাতে সুখ যায় রসাতলে
গোলাপের মনে কষ্ট চিরকাল।
কষ্টের ধন কোন্ সে পরাণে
জমা লাইলি মজনু শিরি ফরহাদ বোঝে
তুমিতো চেনো না কষ্টের দাঁড়ি কমা
কবির কষ্ট কে আর বলো খোঁজে।
কবির আসল রূপ
কবিরা তো কবি নয় হৃদয়ের ডাক্তার
প্রেমে বিরহে দ্রোহে লেখায় হাঁক-ডাক তার।
প্রেমের জোয়ারে কবি খিলখিল হাসে
বিরহ বেদনা নিয়ে লোনা জলে ভাসে।
যেখানেই আনচার অনিয়মে ঘেরা
কবির কলম জানি বিদ্রোহে সেরা।
ফুল বনে যদি হয় চৈত্রের খরা
কবির হৃদয় থাকে বেদনায় ভরা।
কবির হৃদয়ে যদি প্রেম করে ভর
কবিতা আপন হয় বাকি সব পর।
অভিসারে যদি লাগে পিরিতের ধুম
কবির হৃদয় নাচে বাকুম বাকুম।
কবির হৃদয়ে হলে বিরহের ঢেউ
একা একা কাঁদে কবি দেখে না তা কেউ।
ফাগুনের হাওয়া যদি মনে দেয় দোলা
দখিনা দুয়ার কবি রেখে দেয় খোলা।
পাত্রী দেখা
তোমার হাত দেখি
দুই পাও দেখি
ভাটিয়ালি গাও দেখি
শুনি তোমার কন্ঠেতে কী মধু
হাঁটো একটু লজ্জা ভুলে
চুলটা দেখাও খোঁপা খুলে
ক’দিন পরেই হবে ঘরের বধু।
লেবুর শরবত দাও গেলাসে
পড়ো তুমি কোন কেলাশে
পারো কিনা পড়তে কুরআন
সুরা পরীক্ষায় কী এ প্লাস
করবো না কারেও ফ্লাস
পড়ে শোনাও দোয়ায়ে মাসুরা।
কি কি রান্না করতে জানো
ট্রে ভরে খাবার আনো
মুখে দিয়ে পরখ করে দেখি
হাতে যে আলপনা আঁকা
চেহারায় কী ময়দা মাখা
চুলের খোপা আসল নাকি মেকি।
নাম কি তোমার রূপের বালা
কে কী করে চাচী খালা
বংশ তোমার কোন কুল খানদানি
দাদা নানা ওসি ডিসি
বাপ চৌকিদার চাকরি ছি! ছি!
এমন কথা আগে তো না জানি।
নাকটা সুঁচের মতই সরু
পাত্রী যেনো হাটের গরু
ইচ্ছে মতো নিচ্ছি দেখে
সব সাথে চাচা দুলাভাই
পাত্রের বন্ধু বড় ভাই
খানাপিনার চলে যে উৎসব।
এমন আজব পাত্রী দেখা
কেমনে শেষ করবো লেখা
জটিল নাটক চলে আমার দেশে
পাত্রীর অবস্থা ত্রাহি এসব
কথা কইতে নাহি চুপ করে
রই মনে মনে হেসে।
কবিতার ফেরিওয়ালা মুসাফির
তুই ভালো আছিস
কতো লোক ফুটপাতে
ঘুম যায় দিনে রাতে
বাড়ি গাড়ি জমি নাই
টেনশন হররোজ
মু সা ফি র !
তুই তো আছিস ভালো
নাজাতের পথ খোঁজ . . .
কতো লোক খায় না
অধিকার পায় না
ঈদ খুশী পার্বণে
জোটে নাতো ভূঁড়ি ভোজ
মু সা ফি র !
তুই তো আছিস ভালো
নাজাতের পথ খোঁজ . . .
কতো লোক কাঁদে
রোগে অসুখে বিসুখে ভোগে
চিকিৎসা টাকা নাই
নাই ওষুধের ডোজ
মু সা ফি র !
তুই তো আছিস ভালো
নাজাতের পথ খোঁজ . . .
কতো লোক মামলায়
থানা কোর্ট সামলায়
জেলে কাঁদে কয়েদীরা
ফাইল নথি কই গোঁজ
মু সা ফি র !
তুই তো আছিস ভালো
নাজাতের পথ খোঁজ . . .
কতো লোক কাজ নাই
ছেঁড়া জামা ভাঁজ নাই
অভিশাপী জীবনেতে
সুখের পাখি নিখোঁজ
মু সা ফি র !
তুই তো আছিস ভালো
নাজাতের পথ খোঁজ . . .
কতো লোক টাকা নাই
মামু খালু কাকা নাই
প্রেমহীন দিন কাটে
কেউতো রাখে না খোঁজ
মু সা ফি র !
তুই তো আছিস ভালো
নাজাতের পথ খোঁজ . . .
কবিতার ফেরিওয়ালা মুসাফির
চৈত্তির মাইসস্যা দেওই
জম্মের মতোন ম্যাঘ ওইছে
আহাশ একছের আন্ধার
আইতনা ওসসা কুরাও নায়
খাডাল ওইছে খান্দার
খারাজিল্লি মারতে আছে
নামবে আনে দেওই
আচুক্ক্যা দ্যাক ঠাডা পরে
বাইরে যাইস না কেওই . . .
কোলায় গোইন্দ্যা গোরু গুলান
গোচ উগলাইয়া আন
আঁতালে হান্দাইয়া দিয়া
ঠুসি খুইল্ল্যা বান
মাক্তার মাডামে খোঁচা পাচোইনডারে
নে ওই আচুক্ক্যা দ্যাক ঠাডা পরে বাইরে
যাইস না কেওই . . .
চৈত্তির মাইসস্যা দেওইর লগে
হিল পরে ব্যাক আস্তা
এওয়াত হাইন্দ্যা ঘর খাউবরাইছে
আলোট ওইছে রাস্তা
জোংরা মুরা দিয়া তোরে
বোলায় আইয়া কে ওই
আচুক্ক্যা দ্যাক ঠাডা পরে
বাইরে যাইস না কেওই . . .
(প্রকাশিত লেখা ও মতামত লেখকের নিজস্ব, এজন্য কোনরূপ সম্পাদক দায়ী নয়)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here