চেনা মানুষ

0
487

সাইয়েদ সুপ্ত
এত দিন পর মিলিকে আামাদের ঘরে দেখব ভাবতেও পারিনি
মিলিতো আমায় ভুলেগেছে। সে পারেনি আমায় মনে রাখতে
প্রথম দিকে অবশ্য ভাল খোজ খবর নিচ্ছিল। ওর
রসে ভরা চিঠি পেয়ে ভুলে থাকতাম দুজনার দূরত্ব।
তারপর হঠাৎ করেই ওর চিঠি আসা বন্ধু হয়েগেল।
আমার চিঠির উত্তর আসাও বন্ধ হল। ঠিক বুঝে উঠতে
পারলামনা কারনটা। প্রতি ক্ষণে ক্ষণে যার কথা মনে পরে
আকাশ পানে তাকিয়ে যারে খুজতাম । সে যে আমায় ভুলে
গেলো।এপ্রশ্নের ও জবাব পাইনি। বন্ধুদের কাছে জানতে পারলাম
ওরা বাসা বদল করেছে। তারা কোথায় উঠল তা আর জানা সম্ভব
হয়নি। অবিশাস্য হলেও সত্য সেই মিলি আজ আমর অনেক কাছে
এবং আমাদের ঘরেই। এই মিলিকে আমি দীর্ঘ তিন বছর ধরে চিনি
ওর সমস্ত জগৎ আমি খুটে খুটে দেখেছি। হাসি গানে কাটিয়েছি
অনেক সময় । বন্ধন পার্কের বেঞ্চিতে হয়ত লেখা আছে পলাশ
প্লাস মিলি।
দুই
মিলিরে রুপের প্রসংশা করার প্রয়োজন মনে করি না। কারন সে
আমার হৃদয় রাজ্যে একক মালিক প্রসংশা করতে গিয়ে যদি তার
কোন গুন ভুলে থেকে যায়। তাহলে পরে হয়ত নিজেই ব্যাথিত হব।
তারপরও মিলির যে টুকু আমার খুব ভাল লাগত তা হল এর র্নিমল
হাসি। ও যখন হাসত আমার মনে হত এ বিশাল ধরনীর সবাই
হাসছে। হাসছে সমস্ত পাথর, হাসছে সাগরের তলদেশে লুকিয়ে
থাকা সমস্ত শুকরাশি,সবাই হাসছে ওর সাথে তাল মিলিয়ে। আজ
মিলি আমার খুব কাছে কিন্তু তার সেই পদ্ম ফোটানো হাসিটা আর
মুখে নেই। বিগত তিন বছরে ও মুখের এমন দশা দেখেছিলাম মাত্র
একবার। সে দিন বিকেল বেলা হাজির হল আমার মেসে।
তারপর অশ্রুসজল নয়নে আমার বুকে হুমরি খেয়ে পড়ল । আর
কান্না জড়ানো কন্ঠে বলতে শুরু করল পলাশ আমি তোমায় ছেড়ে
যেতে চাইনা,বাবা-মা আমায় অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চাচ্ছে
আমি তোমার ঘর ছাড়া কোথাও যেতে চাইনা কোথাও না ।
মিলির সে কথার বাস্তবতায় আজ অবাক হচ্ছি। বড় জেদি মেয়ে মিলি।
তিন
মিলির চোখের জলে আমার যে শার্টটির অংশ বিশেষ ভিজেছিল
সে সার্টটি আর কখোন ধুইনি। তাহলে যে তার সে জল ধুয়ে যাবে।
সজতনে সে শার্টটি তুলে রেখেছি। এবং আজও সেটা আছে। যখনই
মিলির কথা মনে হত তখন সে শার্টটি বুকে জড়িয়ে রাখতাম।
চার
সরকারি ভাবে বিদেশে পড়ার সুযোগ হলে তা আর হাতছাড়া করতে
চাইলাম না। পাঁচটি বছর থাকতে হবে বিদেশের মাটিতে। মিলি থাকবে
আমার থেকে অনেক দুরে,এসব ভাবতে ভাবতে আমার চোখে জল এসে
গিয়েছিল। মিলি সে অশ্রু মুছে নিয়ে বলেছিল -পলাশ আমি তোমার মিলি ।
আমি তোমার ভাঙ্গাগলার সুর
তুমি কেঁদোনা পাঁচটা বছর তো….
পাঁচ
এ পাঁচ বছরে আমি আর বাড়িতে আসতে পারলামনা,না আসার কারন
ও আছে। ছিল মিলির উপর বিশাল অভিমান। তারপর মা মারাগেলেন,
আমি খবর পেলাম দু-মাস পরে। অবশ্য ইচ্ছে করেই আমাকে পরে
জানানো হয়েছে। এতে করে বাড়ি ফেরার ইচ্ছা লোপ পেল অর্ধেকটা ।
বাকি অর্ধেকটা ও লোপ পেল যখন শুনলাম আমার পঞ্চাশোর্ধ বাবা
টাকার জোরে কুমারি এক মেয়েকে বিয়ে করেছে। গৃণা হলো বাবা এবং
বাড়ির প্রতি,তাই আর এদিকে পা বাড়াতে চাইলাম না। এর পরে পাাঁচটি
বছর কেটে গেল,
ছয়
ইচ্ছে করলে বিদেশের মাটিতে কাটিয়ে দিতে পারতাম বাকি জীবনটা,
সেধরণের সুযোগ আমার হয়েছিল। কিন্তু দেশের মাটি ও মানুষের সাথে
প্রতারণা করার মত সাহস আমার নেই। যাদের কষ্টার্জিত টাকায় বিদেশে
গিয়ে ডিগ্রী অর্জন করলাম, তাদের সাথে কিকরে বেইমানি করি?
তাই বাড়ির টানে নয়, দেশের টানেই ফিরে আসলাম। জানালামনা
কারো কছে। সোজা এসে বাড়িতে উঠলাম। বাড়ির কেহ আমায় চিনতে
পারলনা। চিনবে কে ? যার পেটে জন্মেছিলাম তিনি ওপারের দেশে।
জন্মদাতা গেছেন ব্যবসার কজে বাইরে; বাড়ির কাজের লোকগুলো
সবই নতুন। পরিচয় দিলাম না নিজের। তাই গেষ্ট রুমেই বসতে হলো।
বেগম সাহেবাকে ডেকে দিল ওরা ,তাকে দেখে চমকে উঠলাম… কারণ
তিনি আমার বেশ চেনা। দীর্ঘ তিন বছরের চেনা।
আমার ভাঙ্গা গলার সুর….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here